হাদীছ

সত্যবাদিতা, সম্পর্কিত হাদীছ

‘সত্যবাদিতা’ সম্পর্কিত হাদীছ
বিষয়ভিত্তিক হাদীছ – ৩০ অক্টোবর, ২০১৬
1- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَرْبَعٌ إِذَا كُنَّ فِيكَ فَلاَ عَلَيْكَ مَا فَاتَكَ مِنَ الدُّنْيَا حِفْظُ أَمَانَةٍ وَصِدْقُ حَدِيثٍ وَحُسْنُ خَلِيقَةٍ وَعِفَّةٌ فِى طُعْمَةٍ–

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ) বলেন যে, ‘যদি তোমার মধ্য চারটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে তাহলে দুনিয়াবী যা কিছু হারাও তাতে তোমার কিছু যায় আসে না। ১. আমানত সংরক্ষণ করা ২. সত্য কথা বলা ৩. উত্তম চরিত্র ৪. হালাল খাবার (মুসনাদে আহমাদ হা/৬৬৫২; মিশকাত হা/৫২২২। হাদীছ ছহীহ)।

2– عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ قَالَ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم أَنَا أَوَّلُ شَفِيعٍ فِى الْجَنَّةِ لَمْ يُصَدَّقْ نَبِىٌّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ مَا صُدِّقْتُ وَإِنَّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ نَبِيًّا مَا يُصَدِّقُهُ مِنْ أُمَّتِهِ إِلاَّ رَجُلٌ وَاحِدٌ .

মুখতার ইবনু ফুলফুল (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ) বলেছেন, জান্নাতী লোকদের সম্পর্কে আমিই হব সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং এত অধিক সংখ্যক মানুষ আমার প্রতি ঈমান এনেছে যা অন্য কোন নবীর বেলায় হবে না। নবীদের কেউ কেউ তো এমতাবস্থায় আসবেন যার প্রতি মাত্র একজন ব্যক্তিই ঈমান এনেছে’ (ছহীহ মুসলিম হা/৫০৬; মুসনাদে আহমাদ হা/১২৪৪২; মিশকাত হা/৫৭৪৪)।

3- عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ اضْمَنُوا لِى سِتًّا مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضْمَنْ لَكُمُ الْجَنَّةَ اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ وَأَدُّوا إِذَا ائْتُمِنْتُمْ وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ

উবাদাহ ইবনু ছামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা ছয়টি ব্যাপারে যিম্মাদারী গ্রহণ কর, আমি তোমাদের জান্নাতের যিম্মাদার হব। সেগুলো হ’ল, যখন কথা বলবে সত্য কথা বলবে, অঙ্গীকার পূরণ করবে, আমানতের খেয়ানত করবে না, লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে, চক্ষু অবনত রাখবে এবং হাতকে সংযত রাখবে’ (হাকিম হা/৮০৬৬; মিশকাত হা/৪৮৭০; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৪৭০।)

4- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِى إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِى إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ وَيَتَحَرَّى الصِّدْقَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ صِدِّيقًا وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِى إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِى إِلَى النَّارِ وَمَا يَزَالُ الْعَبْدُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا.

আব্দুল্ল­াহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা কল্যাণের দিকে ধাবিত করে। আর কল্যাণ জান্নাতের দিকে ধাবিত করে। কোন লোক যদি সত্য কথা বলে ও সত্য অনুসন্ধান করে তাহলে সে আল্ল­াহর নিকট সত্যবাদী হিসাবে গণ্য হয়। আর তোমরা মিথ্যা থেকে বিরত থাক। কারণ মিথ্যা পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপাচার জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। কোন লোক যখন মিথ্যা কথা বলে ও মিথ্যা অনুসন্ধান করে তখন সে আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদী বলে লিখিত হয়ে যায়’ (তিরমিযী হা/১৯৭১; মিশকাত হা/৪৮২৪।)

5- عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا أَوْ قَالَ حَتَّى يَتَفَرَّقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِى بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا.

হাকিম ইবনু হিযাম (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে পৃথক না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় বিক্রয়ের সুযোগ থাকে। অথবা তিনি বলেছেন, এমনকি পৃথক হওয়া পর্যন্ত। যদি ক্রেতা ও বিক্রেতা সত্য কথা বলে তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত দেয়া হবে আর যদি তারা পণ্যের কোন দোষ গোপন করে কিংবা মিথ্যা বলে তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে না’ (ছহীহ বুখারী হা/২০৭৯ ছহীহ মুসলিম হা/৩৯৩৭; মিশকাত হা/২৮০২।)

6- عَنْ الْحَسَنِ بْنِ عَلِىٍّ رضي اللّه عنهما قَالَ حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لاَ يَرِيبُكَ فَإِنَّ الصِّدْقَ طُمَأْنِينَةٌ وَإِنَّ الْكَذِبَ رِيبَةٌ .

হাসান ইবনু আলী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ)-এর নিকট থেকে মুখস্থ করেছি যে, তুমি যে বিষয়ে সন্দেহ কর তাকে ছেড়ে দাও এবং তার দিকে ধাবিত হও যা তুমি সন্দেহ করো না। নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা নিরাপত্তা আর মিথ্যা সন্দেহপ্রবণ’ (তিরমিযী হা/২৫১৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪১৬। হাদীছ ছহীহ)।

7- عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ وَلاَ بِأُمَّهَاتِكُمْ وَلاَ بِالأَنْدَادِ وَلاَ تَحْلِفُوا إِلاَّ بِاللَّهِ وَلاَ تَحْلِفُوا بِاللَّهِ إِلاَّ وَأَنْتُمْ صَادِقُونَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের পিতা, মাতা কিংবা কোন দেবদেবীর নামে শপথ করো না। বরং তোমরা শুধুমাত্র শপথ কর আল্লাহর নামে। তোমরা শপথ করো আল্লাহর নামে কেবল সে বিষয়ে যে বিষয়ে তোমরা সত্যবাদী’ (আবুদাউদ হা/৩২৫০; নাসাঈ হা/৩৭৬৯; মিশকাত হা/৩৪১৮।)

8– عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ طَلَبَ الشَّهَادَةَ صَادِقًا أُعْطِيَهَا وَلَوْ لَمْ تُصِبْهُ–

আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রকৃতার্থে শাহাদত কামনা করে তবে তাকে সে মর্যাদা প্রদান করা হবে যদিও সে তা লাভ করতে না পারে’ (ছহীহ মুসলিম হা/৫০৩৮।)

9– عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ-

সাহল ইবনু হানীফ তার পিতা এবং তার পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর নিকটে শহীদ হওয়ার আকাঙ্খা পোষণ করে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদায় পৌঁছিয়ে দিবেন যদিও সে বিছানায় মৃত্যুবরণ করে’ (মুসলিম হা/৫০৩৯; মিশকাত হা/৩৮০৮।)

10– عَنْ سُوَيْدِ بْنِ حَنْظَلَةَ قَالَ خَرَجْنَا نُرِيدُ رَسُولَ اللَّهِ وَمَعَنَا وَائِلُ بْنُ حُجْرٍ فَأَخَذَهُ عَدُوٌّ لَهُ فَتَحَرَّجَ الْقَوْمُ أَنْ يَحْلِفُوا وَحَلَفْتُ أَنَّهُ أَخِى فَخَلَّى سَبِيلَهُ فَأَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّ الْقَوْمَ تَحَرَّجُوا أَنْ يَحْلِفُوا وَحَلَفْتُ أَنَّهُ أَخِى قَالَ صَدَقْتَ الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ-

সুওয়াইদ ইবনু হানাযালা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা আমরা রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ)-এর সাথে দেখা করার জন্য রওয়ানা হলাম। তখন আমাদের সাথে ওয়ায়েল বিন হুজর (রাঃ)ও ছিলেন। এমন সময় তার এক শত্রু তাকে ধরে ফেলল। দলের লোকেরা এ ব্যাপারে শপথ করত সংকোচবোধ করলে আমি শপথ করে বললাম, সে আমার ভাই। ফলে শত্রু তার পথ ছেড়ে দিল। আমরা রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ)-এর নিকট এসে তাকে ঘটনাটি জানালাম এবং বললাম, দলের লোকেরা এভাবে শপথ করাকে ভাল মনে করেনি। আমি শপথ করে বলেছি, সে আমার ভাই। তিনি বললেন, তুমি সত্য বলেছ। কেননা এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই’ (আবুদাঊদ হা/৩২৫৬; ইবনু মাজাহ হা/২১১৯।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close