বিষয় ভিত্তিক হাদীছ

আল্লাহর ভালোবাসা_সম্পর্কিত হাদীছ

‘আল্লাহর ভালবাসা’ সম্পর্কিত হাদীছ
বিষয়ভিত্তিক হাদীছ – ৬ মার্চ, ২০১৬
(১) আব্দুল্লাহ ইবনু জাবর (রাঃ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে নবী করীম (ছাঃ) থেকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ঈমানের নিদর্শন হ’ল আনছারদের ভালবাসা এবং নিফাক্বের নিদর্শন হ’ল আনছারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা (বুখারী হা/১৭; মিশকাত হা/৬২০৬)।

(২) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, দাঊদ (আঃ)-এর ছিয়াম হ’ল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পসন্দের ছিয়াম। আর সবচেয়ে পসন্দের ছালাত হ’ল দাঊদ (আঃ)-এর ছালাত। কারণ তিনি রাতে অর্ধেকাংশ ঘুমাতেন, তিনভাগর একভাগ ছালাত আদায় করতেন এবং ছয়ভাগের একভাগ ঘুমাতেন। আর তিনি একদিন ছিয়াম রাখতেন এবং একদিন ছিয়াম ছেড়ে দিতেন (মুসলিম হা/২৭৯৬)।

(৩) বারা ইবনু আযেব (আঃ) বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আনছারগণ মুমিনদের ভালবাসেন এবং মুনাফিক্বদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করেন। যে ব্যক্তি তাদেরকে ভালবাসবে আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসবেন এবং যে ব্যক্তি তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষন করবে আল্লাহ তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করবেন (বুখারী হা/৩৭৮৩; মিশকাত হা/৬২০৭)।

(৪) আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) হ’তে বর্নিত, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! ক্বিয়ামত কবে সংঘঠিত হবে? তিনি তাকে বললেন, তুমি এর জন্য কী প্রস্ত্তত গ্রহণ করেছ? সে বলল, আমি এর জন্য অধিক কিছু ছালাত, ছিয়াম, ছাদাক্বাহ আদায় করতে পারেনি। কিন্তু আমি আল্লাহ ও রাসূলকে ভালবাসি। তিনি বললেন, তুমি যাকে ভালবাস তারই সাথী হবে (বুখারী হা/৬১৭১)।

(৫) ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, আব্দুল ক্বায়েস গোত্রের মধ্যে দু’টি বৈশিষ্ট্য থাকায় আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন। যথা (১) সহনশীলতা এবং (২) ধৈর্যশীলতা (মুসলিম হা/১২৭; মিশকাত হা/৫০৫৪)।

(৬) আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, মাখযূম গোত্রের এক নারীর চুরির ঘটনায় কুরাইশগণ চিন্তিত হয়ে পড়ল। তারা বলল, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর প্রিয়পাত্র উসামা ইবনু যায়েদ (রাঃ) ছাড়া কে আর তাঁর নিকট বলার সাহস করবে? (বুখারী হা/৩৭৩২)।

(৭) আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ হাঁচিকে ভালবাসেন এবং হাই ওঠাকে অপসন্দ করেন। যখন কারো হাঁচি ওঠবে তখন আল্লাহর প্রশংসা করবে। আর প্রত্যেক মুসলিমের উপর হক্ব হ’ল যখন তা শুনবে তখন তার উত্তর দিবে। আর হাই আসে শয়তানের নিকট থেকে। তখন তোমরা সাধ্যমত ওটাকে বিরত রাখার চেষ্টা করবে। কেননা শয়তান সে সময়ে অট্টহাসি দেয় (বুখারী হা/৬২২৩; মিশকাত হা/৪৭৩২)।

(৮) আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, কোথায় আজ সেই ব্যক্তিরা যারা আমার ইযযতের জন্য পরস্পর ভালবেসেছিল, আজকে আমি তাদেরকে আমার ছায়ার নীচে আশ্রয় প্রদান করব, যেদিন আমার ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না (মুসলিম হা/৬৭১৩; মিশকাত হা/৫০০৬)।

(৯) আবু হুরায়রা (ছাঃ) বলেন, আল্লাহর নিরানববইটি গুণবাচক নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি সেগুলো মুখস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তিনি বিজোড় এবং বিজোড়কে পসন্দ করেন (বুখারী হা/৬৪১০)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close